বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে, বিচার বিভাগ বিভিন্ন আলোচনার ক্ষেত্রে আদালত অবমাননা হয়েছে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ও করেছেন কাউকে, সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কখনই কল্যাণকর হতে পারেনা যদি বিচার বিভাগ তার নিজেস্বস্থানে অনড় থাকে। কিন্তু যখন প্রশ্ন উঠে, তখন বিচলিত হওয়া খুব আশ্চর্যে বিষয় নয়। তবে আমার প্রশ্ন অন্যখানে, একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ তার দুমুখি আচরণের আমাদের যখন বিভ্রন্তিতে ফেলেন তখন আমাদের ভাববার বিষয় হয়ে উঠে সবকিছু।
বিচার বিভাগ নিয়ে এই আলোচনার শেষ আলোচনাটা করেছেন আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিকুল হক। তিনি এক সেমিনারে বলেছেন যে, “রাজনৈতিক হাওয়া বদলের সাঙ্গে সঙ্গে আদালতের রায়েও বদলে যায়। মানুষের মৌলিক মানবিধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। বিচারপতিদের খামখেয়ালিপনা বন্ধ না হলে কখনও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না।” ন্যায কথা এর মধ্যে কোন দ্বিতম থাকার প্রশ্ন উঠেনা। তিনি আইনজ্ঞ, অবশ্যই জেনে শুনেই কথা বলেছেন। আদালত তার নিজেস্ব স্বকীয়তা, নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা, ন্যায়পরয়নার প্রতি যে কমিন্টমেন্ট তার রাখছেনা বলেই এই ব্যাপারে খোলামেলা অভিযোগ করেছেন। যা সাধারণ মানুষের আতংকিত না হওয়ার উপায় নেই।
তিনি আরোও বলেছেন যে, “আইনের শাসন মৌলিক মানবাধিকার একমাত্র আদালতের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এটা আদালতের দায়িত্ব।” এখানে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে মৌলিক মানবধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে আর এটা সম্ভব হবে আদালতের মাধ্যেমে। এটা আদালতেরই দায়িত্ব। আমরা সাধারণ মানুষও এটাই চাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাক, সেই দায়িত্বটা আদালত নিজ থেকেই করুক মানুষের মাঝে আদালতের ভীতি বা সম্মান প্রতিষ্ঠা উজ্জল হউক।
তিনি সরাসরি আদালতের বিরুদ্ধে আভিযোগ করলেন “ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র হতেই পারেনা। গণমাধ্যামের এ স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে মামহমুদুর রহমানের আজ এ অবস্থা। আদালত অবমাননার এক মামলায় আদালত তাকে ৬ মাসের জেল এবং ১লাখ টাকার জরিমানা করেন। ১ লাখ টাকার জরিমানা করার ক্ষমতাই নেই আদালতের। এ সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে যে বিচারপতি সবচেয়ে বেশী তৎপর ছিলেন তিনি পরে প্রমশন পেলেন না। তাকে সুপারসিড করে অন্য একজনকে প্রধান বিচারপতি করা হলো।” কি ভয়ঙ্কর বিষয়, পক্ষপাতিত্বের ঘটনা গ্রাম্য শালিশের আচরণ তার গন্ডি পেড়িয়ে উচ্চ আদালতে এসে পৌছেছে। পদপদবীর উর্দ্ধে মহামান্য বিচারপতিগণও উঠতে পারেনি। বিচারপতিগণ ব্যক্তিগত আশা আকাঙ্খার উদ্ধে থাকবে এটাই জানি এটাই শপধ নিয়েছেন এমনই কিন্তু যাতের লালসা আর চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে বিচারকায্য করেন তিনি কি শপধভঙ্গের কাজটি করেন নি। এমনই প্রশ্ন করতে পারি।
ব্যারিস্টার রফিকুল হক আরো অভিযোগ করেন যে, মাহমুদুর রহমানের রায়ের অন্য একজন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান মাহমুদুর রহমানকে জেল দেয়ার ব্যাপারে আপত্তি করেছিলেন। দ্বিতীয় আদালত অবমাননার মামলয়া একই আদালত শুধু প্রধান বিচারপতি বদল হওয়ার পর মাহমুদুর রহমানকে ১০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একদিনের জেল দিলেন। বিচারপতিদের এ খামখেয়ালিপনা বন্ধ না হলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ব্যারিস্টার রফিকুল হক এর অভিযোগ থেকে চোখ ফেরানো সম্ভব না, তিনি আইন পেশায় জাতীর বিবেক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, আর তিনিই কিনা এই অভিযোগ করেছেন। সাধারণের কাছে আর বাকী থাকলো না আজকের বিচার বিভাগ কোথায় দাড়িয়ে ?
আমার দুষ্টি কিন্তু এখানে না আমি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই অন্যখানে যেখানে ব্যারিস্টার রফিকুল হকও এই অভিযোগাে বাহিরে নন। গত আগষ্ট মাসে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তি আন্দোলন আযোজিত এক গোল টেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি আরেক আলোচক, কর্মজ্ঞ, সাবেক সচিব, সমাজের কাছে আরেক বিবেক মোহম্মদ আসাফউদ্দৌলা বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ নিয়ে বেশ কয়েকটি সত্য কড়া কথা বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক যেমন বলেছেন তিনিও তেমই অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ আপনি বিচারক হিসেবে কাদের তুলে এনেছেন? একজন বিএ পাশ করেণ নাই। ফলস সার্টিফিকেট দিয়েছে। একজন এলএলবি পাশ করেণ নাই। ফলস সার্টিফিকেট দিয়েছে । একজন তিন খুনের আসামী। চমৎকার চমৎকার সব । আমি ভাল ভাল উকিলদের দেখেছি কোর্ট খুঁজে বেড়ায়। নিউট্রাল কোর্ট খুঁজতে হবে। আজকাল তো ঐ রকম নাই। অন্ধকারে টর্চ নিয়ে যদি নিউট্রালিটি খুঁজতে হয় জুডিশিয়ারীর মধ্যে তাহলে আমরা কোথায় যাব? আজ পর্যন্ত তাদের আপনারা দেবতা বানিয়ে রেখেছেন।” তিনি আরো বলেন “আমি একজন বিচারকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবনা। কেন আমি বিচারকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবনা? তুমি ঘুষ নিতে পার আমি বলতে পারিনা? প্রমান হয়নাই তুমি ঘুষ নাও? কেয়ারটেকার সরকারে কে যেন একজন উপদেষ্টা হয়েছিল। আরে তিন মাসের মধ্যে সে তিনশ কোটি টাকা কামিয়েছে। তো বলেন এরকম হল তাদের কনশাস। আদালত অবমনানা সম্পর্কে আমার মনে হয় ইট শুড বি রিভিজিটেড। এগুলো রিভিজিট করে একটা সভ্য সমাজের উপযুক্ত করা উচিত। জজ সাহেবই বোঝেন আর কেউ কিছু বোঝেনা তা নয়।” মোহম্মদ আসাফউদ্দৌলা এই কথাগুলো বলার পর দেশের সর্বচ্চ আদালত তার উপর আদালত অবমাননার অভিযোগ করে স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রুলজারি কারেন এবং আসাফউদ্দৌলা আদালতে নিশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা করে নিজে মুক্ত হন, মোহাম্মদ আসাফউদৌলা যেদিন ১৯ শে আগোষ্ট, ১০ যখন আদালত অবমাননার জন্য অভিযুক্ত হয়ে কোর্টে দাড়ান তখন সেই আদালতে একজন এমিউকিস কিউরি হিসেবে ব্যারিস্টার রফিকুল হক একজন ছিলেন। তিনি এবং অন্য সকল বিজ্ঞ আইনজীবিগণ আদালতে রুলের পরিপেক্ষিতে সকলে একযোগ আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বিচারপতি মোহম্মদ আসাফউদৌলার প্রতি কটাক্ষমূলক বাক্য প্রয়োগ করে শাষান। পরবর্তীদিনে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।
প্রশ্ন আমার এখানেই যে, মোহাম্মদ আসাফউদৌলা বিচার বিভাগ নিয়ে যে কথা বলেছেন সেই কথার জন্য আদালত অবমাননা হলো এবং ব্যারিস্টার রফিকুল হকই আদালত অবমাননা হয়েছে বলে স্বীকার করে নিশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথচ কয়েকদিন ঠিক একই ধরণের বিচার বিভাগের উপর তিনি নিজে আক্রমণ করেন, তাতে কোনো কোর্ট তার বিরুদ্ধে আদালত অবমানমার অভিযোগ উঠেনি এবং তাকে ক্ষমা চাইতে হয়নি। সেই আলোকে ব্যারিস্টার রফিকুল হক কে অবশ্যই প্রশ্ন করতে পারি ‘ যে অভিযোগ মোহম্মদ আসাফদৌলা করেছেন সেই অভিযোগর পরিপেক্ষিতে আদালত অবমাননা হলো এবং আপনি তার হয়ে ক্ষমা চাইলেন, কদিন পরে সেই অভিযোগগুলো আপনি জন সম্মুখ্যে করলেন। তাহলে আমরা জনগণ কি ভুঝলাম? (১) মোহাম্মদ আসাফউদৌলা যে অভিযোগ করেছেন তিনি ঠিকই বলেছিলন সেটা পরবর্তীতে ব্যারিস্টার রফিকুল হক অন্যপথে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তিনি যে আদালতে ক্ষমা চেয়েছেন তা ভুল ছিলো। মূলত বিচার বিভাগ প্রশ্নের উর্দ্ধে নয়। (২) নাকি আপনাদের পেশাদারিত্বে উপর যখন অন্য কেউ অভিযোগ করেন তাকে দমন করার জন্য বিচার বিভাগের সকলস্তর এক হয়ে তাকে থামিয়ে দেন। পেশাদারিত্বের স্থানে আপনারা সকলেই একই অবস্থানে থেকে জনগনকে হাইকোর্ট দেখান।
ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছেন যে, মানুষের মৌলিক মানবিধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলে কোর্ট খুজঁতে হবেনা এটা হওয়া বাঞ্চিনীয়। আমরা জনগণও তাই মানি কিন্তু ব্যারিস্টার রফিকুল হক যদি একথাটি মানেন তবে কেন নতজানু অন্যায়ের প্রতি ?